কালিয়াকৈরে তীব্র এলপিজি সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না গ্যাস


 

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র এলপিজি গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

উপজেলার হরতকিতলা, আমতলা, মাইওয়ান, চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকার দোকান ও ডিলার পয়েন্টে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ না থাকায় বসুন্ধরা, ওমেরা, আই গ্যাস ও দুবাই-বাংলাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিলার পয়েন্টে অনেক সময় দোকান বন্ধ রাখতে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগেও কালিয়াকৈর বাজারে ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তখন বাজারে সরবরাহও স্বাভাবিক ছিল। তবে গত সপ্তাহের শুরু থেকে হঠাৎ সরবরাহ কমতে থাকে। সপ্তাহের শেষদিকে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইদুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগেও ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে এলপিজি গ্যাস পাওয়া যেত। বর্তমানে কিছু ব্যবসায়ী একই সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, নিম্নবিত্ত ও সাধারণ শ্রমিকদের পক্ষে এত বেশি দামে গ্যাস কেনা কঠিন। তাই বাজার মনিটরিং করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, রোববার এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণের আগেই বাজারে থাকা কিছু সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এরপর গত তিন-চার দিন ধরে বাজারে এলপিজি প্রায় উধাও হয়ে গেছে। বাড়তি দাম দিতে রাজি থাকলেও অনেকেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারছেন না।

হরতকিতলা গ্রামের বাসিন্দা কলিম উদ্দিন জানান, তিনি জি-গ্যাস ব্যবহার করেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে জি-গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় তাকে একাধিক দোকানে ঘুরেও গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, শহরের অধিকাংশ মানুষ ফ্ল্যাটবাড়িতে বসবাস করেন। সেখানে কাঠ বা খড়ি দিয়ে রান্নার সুযোগ নেই। ফলে এলপিজি গ্যাসই তাদের প্রধান ভরসা। বাজারে গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

দুবাই-বাংলা এলপিজির পরিবেশক মতিয়ার রহমান জানান, সরকারিভাবে প্রতি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়ানো হলেও বাজারে সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। সরবরাহ না থাকায় অনেক দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বসুন্ধরা ও ওমেরা এলপিজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংকট রয়েছে। কবে নাগাদ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না পরিবেশকেরা।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিশেষ করে পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত বাজার মনিটরিং করে সরবরাহ স্বাভাবিক ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ