আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সাপখেলা চলাকালে সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এন্দাজ মিয়া (৭৪) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মামলার প্রধান আসামি মো. আশরাফুল ইসলাম (৪৫), ৩ নম্বর আসামি মো. মাবু মিয়া (৩০), ৪ নম্বর আসামি মো. লেবু মিয়া (৩০) এবং ৫ নম্বর আসামি মো. এরশাদ আলী (৪০)। তারা সবাই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা গ্রামের মো. নূর হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে কাশিয়াবাড়ীর হাটসংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিক মাঠে এক সাপুড়ে সাপ খেলা দেখাচ্ছিলেন। খেলার একপর্যায়ে সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় অভিযুক্তরা ও অজ্ঞাত আরও ৯-১০ জন মিলে সাপুড়েকে মারধর শুরু করেন।
বৃদ্ধ এন্দাজ মিয়ার বড় ছেলে আব্দুল মালেক সাপুড়েকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। পরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আব্দুল মালেককে মারধর শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে বাবা এন্দাজ মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট গঙ্গাচড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, রংপুর ও র্যাব-১১-এর একটি যৌথ দল মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী থানাধীন বালিগাঁও বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত ৮টা ৫ মিনিটে প্রধান আসামি আশরাফুল ইসলাম ও ৩ নম্বর আসামি মাবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
পরে একই রাতে ইসলামপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৪ নম্বর আসামি লেবু মিয়া ও ৫ নম্বর আসামি এরশাদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।

0 মন্তব্যসমূহ