কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকট, স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকরা, ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রী; গ্যাসের অভাবে বন্ধ ১৫ কারখানা
শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি চালিত যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। উপজেলার অধিকাংশ সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। আর যেসব স্টেশন চালু রয়েছে, সেগুলোর সামনে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
চালক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উপজেলার সিংহভাগ সিএনজি স্টেশন স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। ফলে গ্যাসের জন্য চালকদের এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ছুটতে হচ্ছে। কোনো কোনো স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এক সিএনজি চালক আবির বলেন, “সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দৈনিক আয় অনেক কমে গেছে। পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক চালক দিনভর চেষ্টা করেও গ্যাস না পেয়ে খালি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।”
আরেক অটোরিকশাচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাসের অভাবে সময়মতো গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। একটি স্টেশনে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ট্রিপ মিস হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন স্বল্পতার সুযোগে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে তাদের বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
শুধু পরিবহন খাতেই নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে কালিয়াকৈরের শিল্পকারখানাতেও। উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় এসব কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী চালক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসন করে সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর-চন্দ্রা তিতাস জোনাল অফিসের প্রকৌশলী মাসুদ বলেন, “চাহিদার তুলনায় গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেক সিএনজি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। তবে উপজেলার অনেক শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত এ সংকটের সমাধান হবে।”
তারিখ: ১৬ আগস্ট ২০২৬


কোন মন্তব্য নেই: