নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২ সংশোধন করে বিশেষ আইনি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য আইনের বাইরে কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; বরং তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়োপযোগী ও দ্রুত ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, বাংলাদেশের প্রবাসী নাগরিকরা বছরের অধিকাংশ সময় বিদেশে কর্মরত থাকেন। তারা সাধারণত অল্প সময়ের ছুটিতে দেশে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবার কর্মস্থলে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় কোনো মামলা দীর্ঘদিন চললে তাদের চাকরি, ব্যবসা ও বিদেশে বৈধ অবস্থান নানা সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, একজন প্রবাসী যদি মাত্র কয়েক সপ্তাহের ছুটিতে দেশে এসে জমি দখল, পারিবারিক বিরোধ বা কোনো ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়েন, তাহলে আদালতের পরবর্তী তারিখ কয়েক মাস পর পড়লে তাকে আবার বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসতে হয়। এতে বিমানের টিকিট, ছুটি, আয় হারানোসহ নানা ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
তার দাবি, প্রবাসীদের জন্য আলাদা কোনো বিচারব্যবস্থা নয়, বরং যাচাই করা প্রবাসী মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২ মূলত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কিছু ফৌজদারি মামলার দ্রুত বিচার করার সুযোগ দেয়। প্রবাসী হওয়ার কারণে দেওয়ানি, পারিবারিক, সম্পত্তি বা সব ধরনের মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সুযোগ বর্তমানে নেই। তাই প্রয়োজন হলে সংসদের মাধ্যমে আইন সংশোধন অথবা নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে।
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত ফৌজদারি মামলাকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনার পাশাপাশি জমিজমা, পারিবারিক, সম্পত্তি ও অন্যান্য মামলার জন্য পৃথক প্রবাসী ফাস্ট-ট্র্যাক বেঞ্চ গঠন করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী মামলাকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট, বৈধ ভিসা বা আবাসিক অনুমতি, কর্মসংস্থানের প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে মামলাকে ‘প্রবাসী অগ্রাধিকার মামলা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে।
তবে এ ধরনের সুবিধা যেন অন্য পক্ষের ন্যায়বিচারের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, দ্রুত বিচার মানে কোনো পক্ষকে মামলায় জয়ী করে দেওয়া নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।
তিনি বলেন, “প্রবাসীর জন্য আলাদা ন্যায়বিচার চাই না, দ্রুত ন্যায়বিচার চাই। প্রবাসী অপরাধ করলে বিচার হবে, প্রবাসীর বিরুদ্ধে অপরাধ হলেও বিচার হবে; কিন্তু কোনো মামলাই বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে না।”
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২ পর্যালোচনা করে প্রবাসীদের উপযুক্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, “দ্রুত বিচার মানে প্রবাসীকে সুবিধা দেওয়া নয়, সময়ের অপচয় বন্ধ করা।”


কোন মন্তব্য নেই: