
এম. বাদল খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক ও কৃষকের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রকাশ্যেই ড্রেজারসহ বিভিন্ন উপায়ে বালু উত্তোলন করে তা বিভিন্ন বসতবাড়ির ভিটা ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে জানা যায়, কাউতলী মোড় থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক অভিমুখী সড়কের পশ্চিম পাশে রাধিকা-নবীনগর সংযোগ সড়কটি বিরামপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে। সড়কটির পাশেই রয়েছে একটি সরকারি খাল। অভিযোগ রয়েছে, ওই খাল থেকে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে নির্মিত। সড়কের একেবারে পাশ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে তলদেশের মাটি সরে গিয়ে সড়কটি ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে। একই সঙ্গে খালের তীরে তৈরি হওয়া গভীর খাদ ও ভাঙনের কারণে আশপাশের কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা তাদের ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো অনুমতি বা বৈধ ইজারা ছাড়াই প্রকাশ্যে সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী আরও বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটি ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে, অন্যদিকে কৃষকদের মূল্যবান ফসলি জমিও খালের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
0 মন্তব্যসমূহ