আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
দিনাজপুরে যৌথ অভিযানে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টি পাথর ও দুর্লভ শিলা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়োজিত ৪২ বিজিবি (দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে দেশের অত্যন্ত মূল্যবান এই প্রত্নসম্পদ বিদেশে পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, এসআরবি এবং এলআই টিমের যৌথ দল দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ উপজেলার তেনাপাড়া এলাকায় প্রথম অভিযান চালায়। উক্ত স্থান থেকে ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ড উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে, ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দোহর এলাকায় দ্বিতীয় দফা অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। সেখানে আরও ৪টি দুর্লভ পাথরসহ মোট ৫টি খণ্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয় অভিযানকারী দল। উদ্ধার হওয়া বস্তুর মধ্যে রয়েছে ৮৭ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথর, ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি শ্বেত পাথর এবং ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম, ১৬ কেজি ৮০০ গ্রাম ও ১৮ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের পৃথক ৩টি কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ।
অভিযানের পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে উদ্ধারকৃত এসব বস্তুকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এ জাতীয় বিরল ও ঐতিহাসিক প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের আইনগত দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার করা এসব পাথরের আনুমানিক দাপ্তরিক সিজার মূল্য ১ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ধরা হলেও, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক তাৎপর্যের দিক থেকে এর প্রকৃত মূল্য প্রকৃতপক্ষে অমূল্য।
অভিযান প্রসঙ্গে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, “জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং বিদেশে সম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা-ভিত্তিক এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে সীমান্তে যেকোনো ধরণের মাদক, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নির্মূলে বিজিবি সর্বদা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।”

0 মন্তব্যসমূহ