সরকার তেলের দাম বাড়াতেই রুমায় পরিবহনে সিন্ডিকেট: জ্বালানি খরচ ৩৩৭৫ টাকা, ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার!


বান্দরবানের রুমায় পর্যটকদের গলা কাটা হচ্ছে জিপ ভাড়ার নামে। সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সাথে সাথেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে পরিবহন সিন্ডিকেট।


রুমা বাজার থেকে বগালেক, কেওক্রাডং, পাসিং পাড়া হয়ে সুংসাং পাড়া পর্যন্ত যেতে পর্যটকদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। পাহাড়ি দুর্গম সড়ক, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি - এমন যুক্তি জিপ মালিক সমিতির। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্যটকরা বাড়তি ভাড়া ও গাইডের পেছনে বাড়তি ব্যয় নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।


*হিসাবে জ্বালানি সাড়ে তিন হাজার, ভাড়া দশ হাজার


স্থানীয় চালকদের তথ্যমতে, রুমা বাজার থেকে বগালেক ১৮ কি.মি., কেওক্রাডং ৩০-৩২ কি.মি. এবং সুংসাং পাড়া ৩৯-৪০ কি.মি.। রুমা থেকে সুংসাং পাড়া যাওয়া-আসায় তেল লাগে ২৭ লিটার। রুমায় ডিজেল ১২৫ টাকা লিটার হিসেবে খরচ দাঁড়ায় ৩,৩৭৫ টাকা। অথচ এই রুটে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১০,০০০ টাকা।


*ভাড়া কমানোর দাবি সমিতির*


রুমা জিপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কার্তিক কর্মকার বলেন, "উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলাপ করেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে কমানো হয়েছে। এখন কেওক্রাডং ৬,৫০০ টাকা, সুংসাং পাড়া ১০,০০০ টাকা এবং বগালেক ৪,০০০ টাকা। রাতে থাকলে আরও ১,০০০ টাকা বেশি। কারণ পাহাড়ি রাস্তায় লো গিয়ারে গাড়ি চালাতে হয়, খরচ বেশি।"


পর্যটকদের অভিযোগ: মালিকই চালক, তাই সিন্ডিকেট*


পর্যটকদের অভিযোগ, এখানকার বেশিরভাগ চালকই গাড়ির মালিক। ফলে মালিক হিসেবেও লাভ, চালক হিসেবেও আয় - তাই ভাড়া বেশি। রুমা বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদকও মনে করেন ভাড়া আরও কমানো উচিত। এছাড়া গাইডের পারিশ্রমিক নিয়েও ভোগান্তি চরম। সকাল ৮টার পর হলেই দুই দিনের টাকা, আবার ২ জন পর্যটকের জন্য গাইডের আলাদা বাইক ভাড়াও দিতে হয়।


"প্রশাসনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়নি" - ইউএনও


তবে সমিতির দাবি নাকচ করে দিয়েছেন রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথি। তিনি বলেন, "জিপ মালিক সমিতির ভাড়ার তালিকা প্রশাসনের সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে করা হয়নি। তারা আগের তালিকাই নিজেদের লোক দিয়ে প্রকাশ করেছে। পর্যটকদের সমস্যা হলে প্রশাসন বিষয়টি তদারকি করবে।"


স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পর্যটন ন্ধব ভাড়া নির্ধারণ করা হোক, নইলে বান্দরবানের পর্যটন হুমকির মুখে পড়বে।


শহিদুল ইসলাম 

বান্দরবান জেলা  প্রতিনিধি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ