বিয়ের দুই দিন পরই রহস্যজনক মৃত্যু, গাছ থেকে স্কুলশিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার ০১৭১৭৭৭৬৯৭৭২ ২৮ আগস্ট ২০২৬ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিয়ের মাত্র দুই দিন পর আবু সালেম প্রধান (২৮) নামে এক স্কুলশিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মধ্য নিরুপাড়া এলাকার একটি কলাবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আবু সালেম প্রধান দরবস্ত ইউনিয়নের মধ্য নিরুপাড়া গ্রামের ইসহাক প্রধানের ছেলে। তিনি উপজেলার কাটাখালী বালুয়াহাট এলাকার ‘ইউনিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’-এর সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট বুধবার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের মালেকাবাদ এলাকার আইস উদ্দিনের মেয়ে শ্যামলী আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আবু সালেমের বিয়ে হয়। বিয়েতে পরিবারের সম্মতি থাকলেও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও তড়িঘড়ি আয়োজন নিয়ে সালেমের আপত্তি ছিল বলে জানা গেছে। তার ইচ্ছা ছিল প্রথমে শুধু বিয়ে রেজিস্ট্রি করে রেখে পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা। তবে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেটি সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়রা গ্রামের একটি কলাবাগানের গাছের সঙ্গে সালেমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী জানান, নববধূর পরিবার, স্বজন ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হতাশা বা ক্ষোভ থেকে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিয়ের মাত্র দুই দিনের মাথায় স্কুলশিক্ষকের এমন মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ