
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কমিটি গঠন, সদস্যপদ প্রদান এবং অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে সাধারণ ও সরল-সাধারণ মানুষকে কমিটিতে পদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও পরবর্তীতে সেই কমিটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা কয়েকটি নথি ঘিরেও বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি নথিতে ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের স্বাক্ষর দেখা যায়। নথিতে ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর একটি কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির পদবিন্যাস ও সদস্যদের স্বাক্ষর রয়েছে।
অভিযোগকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—একজন ব্যক্তি যদি মূল সংগঠনের চেয়ারম্যান বা প্রধান দায়িত্বশীল পদে থাকেন, তাহলে একই সঙ্গে তিনি কীভাবে সংশ্লিষ্ট উপ-কমিটির সভাপতির দায়িত্বও গ্রহণ করেন? কমিটির দায়িত্ব বণ্টনে এমন দ্বৈত ভূমিকার যৌক্তিকতা ও সাংগঠনিক নিয়ম কী—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদেরও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কমিটিতে পদ দেওয়ার সময় সদস্যদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অর্থ সংগ্রহের পর কোনো কোনো কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হলে ওই অর্থের হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, সদস্যদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে কি না এবং কমিটি বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ কী—এসব প্রশ্নেরও জবাব চান তারা।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, কমিটি বাতিলের পর সংশ্লিষ্ট উপ-কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এতে যারা আগে কমিটির দায়িত্বে ছিলেন, তারা সামাজিকভাবে বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—এ ধরনের কমিটি গঠন, পদ প্রদান, অর্থ সংগ্রহ এবং পরবর্তীতে কমিটি বাতিলের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, ২০০৮ সাল থেকে এ ধরনের কার্যক্রম চলে আসছে। তবে ২০০৮ সাল থেকে এমন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রয়েছে কি না, তা প্রমাণের জন্য পুরোনো নথি, সদস্যদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর চায় সংশ্লিষ্টরা
১. কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অর্থ নেওয়া হলে তার লিখিত হিসাব কোথায়?
২. কমিটি বাতিল করা হলে সদস্যদের দেওয়া অর্থের কী ব্যবস্থা করা হয়েছে?
৩. মূল কমিটির চেয়ারম্যান কীভাবে একই কাঠামোর উপ-কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেন?
৪. পরিবারের একাধিক সদস্যকে একই কমিটিতে পদ দেওয়ার সাংগঠনিক নিয়ম কী?
৫. কমিটি বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল?
৬. যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না?
অভিযোগগুলোর বিষয়ে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
0 মন্তব্যসমূহ